নাসিমকে রোববার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে রোববার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
শনিবার (১৩জুন) ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, রোববার সকাল ১০টায় সোবহান মসজিদে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় হেলিকপ্টরে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সিরাজগঞ্জে। সেখানে সাড়ে ১১টায় বি এ কলেজ মাঠে হবে দ্বিতীয় জানাযা। বাদ যোহর কাজীপুর উপজেলায় হবে তৃতীয় জানাযা। এরপর ঢাকায় ফিরে বাদ আছর বনানী কবরস্থানে বিচারপতি ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।
বিপ্লব বড়ুয়া আরও জানান, মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এসময় জয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তাকে মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতার মতোই মোহাম্মদ নাসিম আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। সকল ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমিক ও জনমানুষের নেতাকে হারাল। আমি হারালাম একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। শোতবার্তায় মোহাম্মদ নাসিমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শেখ হাসিনা।
এরআগে বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ নাসিম। গত ১ জুন জ্বর কাশিসহ করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। রাতে করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টায় মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেন স্ট্রোক হয়। হাসপাতালের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রাজিউল হকের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টায় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়। সফল অস্ত্রোপচার হলেও তার মাথার ভেতরে বেশ কিছু রক্ত জমাট বেধে ছিল। স্ট্রোকের পর থেকে গত ৮ দিন তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টেই ছিলেন।