চকোরিয়ায় ধর্ষণ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত আহত ৩
কক্সবাজারের চকোরিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন নামের এক আসামি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে বলে জানান পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানান পুলিশ। নিহত সাজ্জাদ হোসেন পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিল্লাঘোনা এলাকার আবুল হোসন ওরফে পুতুর ছেলে এবং সে পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গত ৬ মে রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য চট্টগ্রাম থেকে এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে পেকুয়া বাজারে পৌঁছান চম্পা বেগম (১৯) নামের এক তরুণী। পরে সেখান থেকে গাড়ি বদল করে চকরিয়া যেতে এক অটোরিক্সায় ওঠেন। এক পর্যায়ে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকায় পৌঁছলে চলন্ত গাড়ি থেকে চম্পা বেগমকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওইদিন রাত ১২ টার দিকে খবর পেয়ে সড়কের পাশে জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় তরুণী চম্পা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও জানায়, এ ঘটনার পরদিন নিহত তরুণীর পিতা বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে গত ৭ মে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র্যাব ১৫ কক্সবাজারের একটি দল জয়নাল আবেদীন নামের পেকুয়ার কিল্লঘোনা এলাকার বাসিন্দা আরেক অটোরিক্সা চালককে গ্রেপ্তার করে। তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িতদের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
ওসি হাবিবুর বলেন, সোমবার সকালে পেকুয়ার স্থানীয় জনতা তরুণী ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন আসামি সাজ্জাদ হোসেনকে নিজ এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পেকুয়া থানার পুলিশ পরে তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করে।
ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজ্জাদ পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার সবিস্তার বর্ণনা দেয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে নিয়ে চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে গেলে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।
সাজ্জাদকে নিয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তার সহযোগীরা উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে সহযোগীদের গুলিতে সাজ্জাদসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দেশিয় তৈরি দুটি বন্দুক, ছয় রাউন্ড গুলি ও কয়েক রাউন্ড গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে হলে এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান।