করোনা মোকাবেলায় কাজ করছে সিএমপির মানবিক পুলিশ টিম


সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন ও দাফন কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে পুলিশ। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতই পুলিশ সদস্যরা নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। তাই প্রতিদিন পুলিশ সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আক্রান্ত সহকর্মীদের সেবাসহ চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একজন পুলিশ সদস্য। তার নাম শওকত হোসাইন এরশাদ।

তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একজন কনস্টেবল। তিনি সিএমপিতে গড়ে তুলেছেন ১০ জন সদস্যের মানবিক পুলিশ টিম। এই টিম নিয়ে কনস্টেবল শওকত করোনা উপসর্গ আছে এমন পুলিশ সদস্যসহ সাধারণ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করছেন এবং নমুনাগুলো বিআইটিআইডিতে পৌঁছে দিচ্ছেন। পাশাপাশি আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সেবা নিশ্চিতে খোঁজ-খবর রাখছেন। আর সাধারণ মানুষের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ ত্রাণ ইফতার সামগ্রী বিতরণের কাজ করছেন।

এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেবা প্রদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ক কনস্টেবল শওকত বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষদের সেবা করার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সিএমপির সকল পুলিশ সদস্যরা যেভাবে আমাকে ভালোবাসেন, আমি একইভাবে চট্টগ্রামের সকল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেতে চাই। আমি সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পুলিশ ও সাধারণ জনগণের নমুনা সংগ্রহ করা, পুলিশ সদস্যদের খোঁজ-খবর রাখা এবং ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ নিয়ে কাজ করছি। এ দীর্ঘসময় পিপিই ব্যবহার করে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমি পিপিই ছাড়াই কাজ করছি। তবে মাঝেমাঝে উর্ধ্বতন স্যার দের সামনে আমি পিপিই ব্যবহার করি। এ কারণে তিন মাস যাবত আমি আমার পরিবারের সাথে দেখা করছি না। সিএমপি থেকে আমাকে ঠিক করে দেয়া একটি রুমে আমি থাকছি।’

নমুনা সংগ্রহ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের নমুনা সংগ্রহের জন্য বিআইটিআইডি থেকে টেকনিশিয়ানরা আসেন। আমি তাদের সাথে নমুনা সংগ্রহের কাজে সহায়তা করি। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ করছি। কারো অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে, আমরা তাদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছি। সিএমপি থেকে মানবিক পুলিশ টিমকে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। এ অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে আমি পুলিশ সদস্যসহ চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে দুইবার সর্দি-কাশিতে ভুগেছিলাম। করোনা রোগীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এমন সমস্যায় পড়া সত্যিই ভীতিকর। তবে আমি এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি। নিজে নিজে গরম পানিতে আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে খেয়েছি। আল্লাহর রহমতে দুইবারই সুস্থ হয়েছি। যেভাবে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে গেছে, সেখানে যে কারো সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আমি সংক্রমণের ভয় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারিনি।’

সিএমপির মানবিক পুলিশ টিম প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগমের কাছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ২১ জন সদস্যের করোনা পজিটিভ। এছাড়াও ৫২ জন পুলিশ সদস্য আইসোলেশনে আছেন। পুলিশ সদস্যদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের মানবিক পুলিশ টিম কাজ করে যাচ্ছে। তারা নমুনা সংগ্রহ ও বিআইটিআইডিতে তা পরীক্ষার জন্য প্রেরণের কাজ করছে। এছাড়া তারা নগরের বিভিন্ন স্থানের সাধারণ মানুষদের সেবা প্রদান করছে। আমাদের এ মানবিক পুলিশ টিমের কাজ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ টিমও অনুসরণ করে।’


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.