২৯ শে এপ্রিল ১৯৯১
মুঃ সালাহ উদ্দীন
এইতো দেখেছি গরু তার বাছুর নিয়ে ঘাস খেতে ব্যস্ত,
সোনালী ফসলের আবহমান রুপ এ মুগ্ধ এই মন।
হরেক রকম ফসলে মাঠ পরিপূ্র্ণ
সবুজ সবজি তুলব একটু পরে!
গোলার ধান বিক্রি করে সানাই
বাজাবো এবার…
পুকুরেতে রুই কাতলা যেন আজ
মনের সুখে উচ্ছ্বাসিত;
দূর্ভোগ পোহাবো এবার!
আমের মুকুলে সাড়া গ্রাম সবুজে সমাদ্রিত
মা গাভীটা বাঁছুর দিবে দু-এক দিন পর
লাঘব হবে অনাশ্রিত কষ্টের!
বহুদিন দু-মোটো খাওয়া হয়নি পেট ভরে!
ছোট বোনের পছন্দের লাল শাড়ি কিনে দিবো এবার।
মায়ের বালাটা অনেক বছরের পুরোনো
মায়ের জন্য কিনে আনবো নতুন বালা;
বাবার তো সর্দি কাশি জ্বর কমে না নিয়ে যাব শহরে
চিকিৎসা করাবো ভালো ডাক্তার দিয়ে।
হঠাৎ দক্ষিণা মেরুতে বইছে বাতাস,
প্রবল বাতাস ;
বইছে ঘূর্ণি হাওয়া
এই গর্জন কিসের?
এই তো এক প্রলংয়নকারী ঘূর্ণিঝড়!
স্বপ্ন ধ্বংস করার ঘূর্ণিঝড়!
গাছের ডালপালা ভেঙ্গে গেছে এক নিমিষেই,
শিকড় গেছে উপড়ে,
এক ঘরের টিনের ছাঁউনি অন্য ঘরে যুক্ত হয়েছে!
জলোচ্ছাসের তীব্র গতিতে নিঃশেষ সোনার ফসল
জলোচ্ছাসের জলে ভাসছে গোয়ালের গরু,
ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাসের পানিতে ভাসছে আমার স্বপ্ন!
নোনা জলে অথই পানিতে মৃত মাছ,
বৃদ্ধ মা, বাবা ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাসের যুদ্ধে মৃত প্রায়!
ছোট বোনটিকে ভাসিয়ে নিয়েছে
প্রলংয়নকারী ঘূর্ণিঝড়!
লাশের মিছিলে সাঁতার না জানা
দুরন্ত শিশু-কিশোর!
নিঃস্ব আমার সব স্বপ্ন প্রলংয়নকারী ঘূর্ণিঝড়ে
জীবিত থেকে ও মৃত আমি
বেঁচে আছি সব হারানোর প্রখর ব্যথায়!
কবি ও লেখক, চট্টগ্রাম।