সাংবাদিক আরিফের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় চট্টগ্রামে প্রতিবাদ


কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মাঝ রাতে নিজের বাসার দরজা ভেঙে তুলে এনে অমানুষিক নির্যাতন ও মাঝরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের সুস্থ শক্তির ওপর চরম বেআইনি হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, নিজের অনিয়মের দায় ঢাকতে বাংলা ট্রিবিউনের সংবাদকর্মী আরিফুল ইসলামের ওপর কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক যে বর্বরতা দেখিয়েছেন, সেটি শুধু নজিরবিহীনই নয়, সারাদেশে সুস্থ সাহসী সাংবাদিকতার জন্য বড় ধরনের হুমকি। সরকারের ক্ষমতার বাইরেও একশ্রেণির আমলা যে সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র সৃষ্টি করেছেন এই ঘটনা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ ঘটনায় দায়ীদের কঠোর বিচার আর সাংবাদিক আরিফকে দ্রুত মুক্তি না দিলে এটাই স্পষ্ট হবে সাংবাদিকতার সুরক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্র উদাসীন।

শনিবার (১৪ মার্চ) বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রতিবেদকের কাছে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব মন্তব্য করেন।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ এর রিজিওনাল এডিটর (চট্টগ্রাম) কামাল পারভেজ বলেন, ‘এ জঘন্য কাজ সারাদেশের সাংবাদিকদের চরমভাবে শঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ, এ ঘটনা এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রশাসনের কারও নিউজ পছন্দ না হলে এভাবে সাজা দিয়ে সাংবাদিকদের শায়েস্তা করা সম্ভব। এটা ভয়ঙ্কর মানসিকতা। এটি রাষ্ট্রের চিরন্তন ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করার মতো।’

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের প্রতিবেদন যে কারও বিপক্ষে যেতেই পারে। এর জন্য অসহনশীল হয়ে যদি কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। মাঝরাতে কারও বাসায় গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধরে এনে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়ার বিষয়টি নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলছেন, আমরা মনে করি বর্তমান সরকার গণমাধ্যমবান্ধব সরকার-সেখানে এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় সাংবাদিকদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। সরকারের যেসব কর্মকর্তার ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে আমরা আশাকরি সরকার অবশ্যই তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, ‘এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়। রাতে আঁধারে এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার নজির এর আগে আমরা কখনও দেখিনি। সাংবাদিক আরিফ যদি সত্যিকার অর্থে দোষীও হয়ে থাকেন, তাহলেও দিনের বেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে শাস্তি প্রদান করতে পারতো। কিন্তু জেলা প্রশাসকের লোকজন সেটি করেননি। তাই আপাতদৃষ্টিতে বোঝাই যায়, এখানে তারা পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উম্মোচন করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.