আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে, জনগণ চাইছে আমি নির্বাচন করি: তারেক সোলেমান
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাননি। তাই স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বাসভবন নন্দনকাননে দেখা করতে গিয়ে মনোনয়ন না পাওয়ার আক্ষেপের কথা বলেন তারেক সোলেমান।
এসময় তিনি বলেন, ‘আমার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে আমার জনপ্রিয়তা আছে। তারপরও ষড়যন্ত্র করে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। নির্বাচন করতে দেবেন না, রাজনীতিও করতে দেবেন না; তাহলে বিষ দেন, বিষ খাই’। প্রত্যুত্তরে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কীভাবে এটা হয়েছে, বুঝতে পারছি না। তোমার জনপ্রিয়তা আছে, তুমি কেন বাদ পড়লে সেটা ভাবছি’। এসময় দলের জন্য তারেক সোলেমান সেলিমের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাকে সান্ত্বনা দেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম বলেন, আমি মহানগর আওয়ামী লীগের মান্নান-মহিউদ্দিন কমিটির সদস্য। আলকরণ ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। বাবা ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। প্রয়াত মা আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কিছুই বুঝতেন না। আমি আলকরণ ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এসময়কালে আমি এই ওয়ার্ডে মাদক নির্মূলে কাজ করেছি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সহযোগিতা করেছি।
তিনি বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে আমাকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই নেতাকে বিষ দিতে বলেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এলাকার জনগণ চাইছে-আমি নির্বাচন করি। তাই এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আশা করছি, জয় আমার হবে’।
এদিকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তারেক সোলেমান সেলিমের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ আছে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতু আছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে ৪০ হাজার টাকার এবং আসবাবপত্র রয়েছে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের। তার ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো টাকা জমা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কেবল পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সম্পদ রয়েছে।