কর্ণফুলীতে আগুনে কলোনি পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে ২৫ পরিবার
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষাধিক
জে.জাহেদ, সিনিয়র রিপোর্টার:
কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডে সাহেদ কলোনিতে আগুন লেগে ২৫টি পরিবারের মাথা গুজার ঠাঁই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ২৫টি পরিবারের মালামাল পুড়ে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে।

ভাড়া ঘর পুড়ে যাওয়া এসব পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ভোর ৫টায় ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, উপজেলার উত্তর চরলক্ষ্যা গ্রামের সাহেদ কলোনির ভাড়াটিয়া রাজু, পারভেজ, আকবর, মুরাদ ও বাদশা পরিবারসহ ২৫টি পরিবারের বসতঘর এবং রান্নাঘর পুড়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা সবার মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন লাগায় স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পরে খবর দেওয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই অধিকাংশ বসতঘর পুড়ে শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের দেওয়া কাপড়চোপড় পরে আছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ি মনিরুল হক তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫০টি কম্বল ও খাবার পানি বিতরণ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেননি বলে এলাকাবাসীরা জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত বাদশা মিয়া ও রহিমা বেগম বলেন, ‘ঘরসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। এক পোশাকে মানুষের দেওয়া কাপড় চোপড় পরে আছি। প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদ জানান, ভোর রাতে আগুন লাগায় কিছু বুঝতে পারিনি। তবে ধারণা করছি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে মুহূর্তেই আগুন পুরো কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেউ কিছু বের করতে পারেনি কোন রকমে প্রাণে বেঁচে গেছে।
পাশের লোকজন ও স্থানীয় যুবক রাসেল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনেক কষ্টে রাত কাটাচ্ছেন৷ এই মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, আগুনের সূত্রপাত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হয়েছে বলে কলোনির লোকজন জানায়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকা হবে ধারণা করেছেন।