অবশেষে আটক: শুকনো মাশরুম আমদানির আড়ালে সিগারেটের বড় চালান
কাস্টম হাউস এলাকায় সাজ সাজ রব। দিনভর ব্যস্ত কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। এ সুযোগে ১ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার শলাকার সিগারেটের বড় একটি চালান খালাসের চেষ্টা করছিলো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খায়ের ব্রাদার্স। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি সিগারেটের কনটেইনারটি আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা দল (এআইআর)। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বন্দর ও কাস্টম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
বন্দর ও কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আমদানিকারক ‘বাংলা ভিনা এন্টারপ্রাইজ’ ঘোষণা দিয়েছিলো মাশরুম আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে পাওয়া যায় বিদেশি সিগারেট।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ ( এআইআর) বিভাগের সহকারী কমিশনার নুর এ হাসনা সানজিদা অনুসুয়া জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি লক করা হয়েছিলো যাতে কেউ খালাস নিতে না পারে। কিন্তু সেই চালান একটি সিঅ্যান্ডএফ কীভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইনডেন্ট বা ছাড়ের অনুমতি নিয়ে খালাসের চেষ্টা করলো সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালানটি আটকের পর সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা পালিয়েছে।
সূত্র জানায়, জরুরিভিত্তিতে কনটেইনারটি খুলে দেখা যায় সেখানে সব বিদেশি ব্রান্ডের সিগারেট। মাশরুম ঘোষণার আড়ালে বন্দর থেকে বের করার চেষ্টা করেছিল আমদানিকারক। ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারটি খুলে কায়িক পরীক্ষা বা গণনা করা হচ্ছে।
বাংলা ভিনা এন্টারপ্রাইজ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক কনটেইনার শুকনো মাশরুম আমদানির জন্য ব্যাংক এশিয়া থেকে ঋণপত্র খুলে। ৭৮১ কার্টনে এ মাশরুম আমদানির জন্য ৭৩৩৫ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়। চালানটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। গত ৫ জানুয়ারি চালানটির বিল অব এন্ট্রি জমা দিয়ে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।