চট্টগ্রামে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন


কে এম রাজীব: চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেছেন, সন্তানদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। সন্তানদের প্রতি পরিবারের নজর রাখতে হবে। পরিবার এবং সমাজের পক্ষ থেকে আমরা যদি সার্বিক সহযোগিতা না পাই তাহলে প্রশাসনের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে মাদক মুক্ত সমাজ ও দেশ গঠন করতে।

রোববার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডস্থ হোটেল সৈকতের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৩ উপলক্ষে আলোচনা সভায প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও বর্তমানে এদেশের যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি এবং ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া প্রকট হয়ে উঠেছে। মাদকদ্রব্য আমাদের জনস্বাস্থ্য, শান্তিশৃঙ্খলা, আর্থ সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। কোনো একটি একক সংস্থা বা দেশের পক্ষে এ সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। মাদকের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ আমাদের জরুরি। এজন্য আমাদের সামাজিক যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা যে যুদ্ধ করি তা যতেষ্ট নয় আমাদের আরও কঠোর হতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ আমাদের মতো দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সন্তানরা মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টা আগে মা বাবাকে সচেতন হতে হবে। মা বাবাদের সন্তানদের খবর রাখতে হবে। সন্তানদের শৃঙ্খলায় রাখতে প্রথমে মা বাবা, দ্বিতীয়তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এরপর প্রশাসন। বর্তমানে বড় লোকের ছেলেরাও মাদকের প্রতি আসক্ত। তারা যদি একবার মাদকে জড়িয়ে পড়ে তাদের ফেরানো অনেক কঠিন। আমরা এমনো জেনেছি, বড় লোকের ছেলেরা জন্মদিন উপলক্ষে যে কেক ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে সেই কেক গুলোতে মাদকের নির্জাস থাকে। আমাদের মনে হয় মাদকের বিরুদ্ধে এবং সন্তানদের মাদক থেকে সর্তক থাকার লক্ষ্য মা বাবাদের নিয়ে সম্মেলন করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে, বেতার ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা দিলরুবা খানমের পরিচালনায়, আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বডার্র গার্ড বাংলাদেশ চট্টগ্রাম সদর দপ্তরেরর উপর মহা-পরিচালক এস এম আবুল এহসান, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাফরুল্ল্যাহ কাজল ও সফিজুল ইসলাম চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিস।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্র অধিদপ্তর সিমিত জনবল নিয়ে যে ভাবে মাদক প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন এতে করে তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। দেশের যুব সমাজকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মাদকের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামে মাদকাসক্তিদের নিরাময়ে নিরাময় সেন্টার গুলো সঠিক ভাবে চালানো খুবই জরুরী এবং তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমাদের কোনো সন্তানরা যেন মাদকের দিকে আসক্ত না হয় সে লক্ষ্য চট্টগ্রামের প্রতি জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যােগ নিয়েছে। এতে করে ছেলে মেয়েরা খেলার দিকে মনোযোগী হলে মাদকাসক্ত থেকে দূরে থাকবে এবং ” মানুষই মুখ্য মাদককে না বলুন, শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলুন” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ” জিরো টলারেন্স ” বাস্তবায়নে নোডাল এজেন্সি হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আরো অন্যান্য সংস্থা মাদকাসক্তিমুক্ত দেশ গড়ার ভিশন বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.