পেকুয়ায় প্রবাসীর উপর হামলা, মামলা করায় বাদীকে আসামির হুমকি


কক্সবাজারের পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রবাসী শহীদুল ইসলাম মামুন নামের এক ব্যক্তির পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।

প্রবাসী শহীদুল ইসলাম মামুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর মেহেরনামা গ্রামের, আব্দুল সিকদার পাড়ার, হাজী মোঃ শাহ আলম সিকদারের ছেলে। হামলার ঘটনায় পেকুয়া থানায় ৬ নাম উল্লেখ ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত রেখে একটি মামলা ও রুজু করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন, মোঃ ইসমাইল (৪৫), শাহাব উদ্দিন (৪৯), গিয়াস উদ্দিন (৪৭), মহিউদ্দিন (৫১), সরোয়ার উদ্দিন (৫৩) ও মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৮)। আসামিরা মৌলভি আবু বক্কর সিদ্দিক ছাড়া বাকিরা সবাই একই এলাকার মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামিরা আপন চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে পারিবারিক ভাবে দীর্ঘদিন পূর্ব শত্রুতা ছিলো। যার ফলে আসামিরা প্রায় বাদী পক্ষকের সদস্যদের হেনস্থা করা সহ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলো। হুমকির বিষয়ে পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয় যাহার জিডি নং- ১২৬০। এমতাবস্থায় শহীদুল ইসলাম মামুন প্রবাসে থাকাকালীন তার মায়ের মৃত্যু হলে সংবাদ শুনে গত ১৩ জানুয়ারি মায়ের জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য দেশে ছুটিতে আসে। ছুটিতে আসার পর একই কায়দায় আসামিরা হেনস্থা করে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামীরা একই উদ্দেশ্যে যোগসাজসে দলবদ্ধভাবে গত ২৯ জানুয়ারি আনুমানিক সকাল ৯.৫০ মিনিটের সময় প্রবাসী শহীদুল ইসলাম মামুন তার কন্যা শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে, আসামিরা তার মোটর সাইকেল গতি রোধ করে। এসময় শহীদুলের শার্টের কলার ধরে টেনে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে কিল ঘুষি মারিতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহীদুলের বুকে আঘাত করার চেষ্টা করলে সে পাশ কাটিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরলে তার চিৎকারে সানাউল্লাহ বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাহাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে আসামী ইসমাইল তাহার হাতে থাকা লোহার রড় দিয়ে সানাউল্লাহ বাহাদুরকে মাথায় আঘাত করলে তার হাতের হাড় ভেঙ্গে গুরুতরভাবে জখম হয়। পরে শহীদুলকে আসামিদের হাতে থাকা গাছের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মেরে জখম করে। এসময় শহীদুলের স্ত্রী তার ১ বছর বয়সী বাচ্চা কোলে নিয়ে স্বামীকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করলে আসামিরা শহীদুলের স্ত্রীকে মারধর করে চুলের মুঠি ধরে টানা হেছড়া করে এবং শ্রীলতাহানী করে। এসময় শহীদুলের ১ বছর বয়সী শিশুকেও আসামীরা আঘাত করে। এক পর্যায়ে আসামিরা শহীদুলের পকেটে থাকা একটি মোবাইল সেট, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা এবং গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বলে যে কোন মামলা না করি। মামলা করলে সন্তানদের অপহরণসহ হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আসামিরা।

সূত্রে আরও জানা যায়, আসামি ইসমাইল একসময় মুরগী বিক্রি করতো। পরে ছোট একটি পানের দোকান করে চলতো। এর পর ছাগল বিক্রি করতো। পরবর্তীতে তার ভগ্নীপতি আসামি মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিক জায়গার মুন্সীর কাজ করার সুবাদে নিরীহ মানুষের জায়গা জমি জোর পূর্বক দলিল বানিয়ে জায়গা দখল করে এখন এলাকার প্রভাবশালী নেতা। বর্তমানে হামলার শিকাররা চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। হামলার ঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারী পেকুয়া থানায় মোঃ ইসমাইল, শাহাব উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, মহিউদ্দিন, সরোয়ার উদ্দিন, মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিক সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আর ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলা রুজু করলেও মামলা পরবর্তীতে আসামি গিয়াস উদ্দিন, সরোয়ার উদ্দিন ও মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিক জামিন নিলেও মোঃ ইসমাইল, শাহাব উদ্দিন ও মহিউদ্দিন পলাতক রয়েছে। বর্তমানে আসামিদের মামলা তুলে নেওয়ার ও প্রাণ নাশের হুমকিতে প্রবাসী শহীদুলের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা যায়।

ঘটনার বিষয়ে পেকুয়া থানায় যোগাযোগ করা হলে, মামলার তদন্ত অফিসার পুলিশের উপ পরিদর্শক মোঃ রোকন উজ জামান বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন জামিন নিয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.