আমরা সোনার বাংলাকে হীরার বাংলাতে রুপান্তর করতে সক্ষম হবো : সুফি মিজান


নিজস্ব প্রতিবেদক : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও আদর্শের উপরই প্রতিষ্ঠিক বিশ্বের সর্বপ্রথম প্রাচীনতম পাঠদানের প্রতিষ্ঠান আল আযাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও বাংলাদেশ শাখার শুভযাত্রা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আল আযাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখার পরিবার। রোববার (১০ এপ্রিল) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে “The World Organization for Al-Azhar Graduates ” এর বাংলাদেশ শাখার সভাপতি ও পিএইচপি’র চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আল আযাহার বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইয়্যেদ জালাল উদ্দিন আযহারী।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি আল আযাহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, হাজার বছরের স্মৃতি বিজড়িত জ্ঞান বিজ্ঞান ও মারেফতের প্রাণকেন্দ্র আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এই অবধি প্রায় ১০৮২ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে দেশি বিদেশি লক্ষ লক্ষ জ্ঞানপিপাসুদেরকে বিনামূল্যে জ্ঞানের ক্ষুধা মিটিয়ে যাচ্ছে। খলিফা আল-মুয়িজ উদ্দিন ৯৭০ মতান্তরে ৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রিয়নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় দুলালী ও মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহ আনহুর সহর্ধমিনী এবং জান্নাতি যুবকদের সর্দার সাইয়্যেদিনা ইমাম হাসান ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র মাতা ফাতেমাতুয যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার আয্ যাহরা নাম থেকে আল-আযহার নামে নামকরণ করেন। যদিও পাঠদানের দৃষ্টিকোন থেকে অক্সফোর্ড ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্টিত হয়ে বিশ্বের প্রথম হলেও আল আযাহার বিশ্বের সর্ব প্রথম প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার প্রতিষ্টা কাল ১০৮২ খ্রিস্টাব্দে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস তথ্যমতে বর্তমানে আল-আযাহারে মিশরের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ছাত্র ছাত্রী মিলে প্রায় দুই মিলিয়ন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১০৮২ বছর যাবত মধ্যমপন্থার মাধ্যমে ইসলাম সঠিক রুপরেখা পৃথিবী ব্যাপী তুলে ধরার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আল আযাহার বিশ্ববিদ্যালয়। আল আযাহার শুরুতে ফাতেমী ইসমাইলী শিয়াদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তী ফাতেমী পতনের পর সালাউদ্দিন আইয়্যুবী (রহ:) শাসন আমল থেকে এই পর্যন্ত একমাত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও আদর্শের উপরই প্রতিষ্ঠিক অনুসারে পাঠদান করে আসছে। ২০০৭ সালে মিশরীয় আইনের ৭১৪৫ নং ধারা অনুসারে তৎকালীন আযাহারের গ্রান্ড ইমাম তথা শাইখুল আযহার ড. সাইয়্যেদ তানতাভী (রহ:) বর্তমান গ্রান্ড ইমাম বা শাইখুল আযহার ড.আহমাদ আত তাইয়্যেব হাফিযাহুল্লা এবংমিশরের সাবেক ধর্মমন্ত্রী ড. হামদি যাকযুক (রহ:) সহ একঝাঁক আযহারি স্কলারদের উপস্থিতিতে ও তাঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। এর ফলশ্রুতিতে সংস্থাটির শাখা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরলেও বাংলাদেশে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোনো শাখা গঠিত হয়নি। যদিও বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘরানার আযহারি শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন হাই প্রোফাইলড ব্যক্তিত্বদেরকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়নের প্রস্তাব পূর্বক নানা প্রপোজল এবং চেষ্টা তদবির করে ছিলেন।কিন্তু তা যথাযথ পন্থায় না হওয়ায় সংস্থাটি আলোর মুখ দেখেনি।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রথিতযশা সুফি ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক, একুশে পদকপ্রাপ্ত পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিশর সফরকালীন সময়ে বর্তমান গ্রান্ড ইমাম,ইমামুল আকবর সাইখুল আযহারের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি সুফি মিজানুর রহমানকে সংস্থাটির বাংলাদেশ শাখার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব জানালে আযহারিদের একান্ত অনুরোধে আলহাজ্জ্ব সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বাংলাদেশি আযহারিদের অভিভাবকত্ব গ্রহণে সম্মত হন বলে জানান আল আযাহার বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইয়্যেদ জালাল উদ্দিন আযহারী।
সংবাদ সম্মেলনে পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আল আযহারী এবং সুফিবাদের মতাদর্শ যদি আমরা বুকে ধারণ করতে পারি তাহলে পৃথিবীতে কারো দ্বিধাদন্ধ থাকবেনা। তখন আমরা এই সোনার বাংলাকে হীরার বাংলাতে রুপান্তর করতে সক্ষম হবো।এসময় তিনি সুফিবাদ, যোনায়েদ বাগদাদী ও ইমাম গাজ্জালির ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে সংগঠনটির শুভযাত্রার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ সায়েস্তা খান আযহারী, মাওলানা সাইফুদ্দিন খালেদ আযহারী, মাওলানা কামাল উদ্দিন আযহারী, মাওলানা আবু আহমদ আযহারী, মাওলানা মাসুম কামাল আযহারী ও মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আযহারী।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.