আনোয়ারায় শীত শেষ না হতেই চড়া সবজির দর
রিয়াদ হোসেন, আনোয়ারা প্রতিনিধি: বাজারভর্তি নানা রকমের শীতকালীন সবজি তবুও দাম যেন আকাশছোঁয়া। শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমতে থাকায় প্রতিটি সবজি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশায় সাধারণ মানুষ। রোজার আগে বাজার নিত্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণের দাবি তাদের।
উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে প্রতিদিন স্থানীয় ও উপজেলার বাইরের কৃষক তাদের উৎপাদিত টাটকা সবজি নিয়ে পাইকারি বিক্রি করতে আসেন। আর এখান থেকেই দূর-দূরান্তে সবজি ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে নিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে জয়কালী বাজার , চাতরী চৌমুহনী বাজার, রুস্তম হাট, ঘরে দেখা যায়, বাজারে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ রয়েছে। এরপরও বেশির ভাগ সবজির দাম চড়া। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি সবজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। এতে কৃষক লাভবান হলেও ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে অসহায় হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের মৌসুমে সবজির দাম সাধারণত কম থাকে। কিন্তু এবার ছিল তার ব্যতিক্রম। ফুলকপি কেজি ৪৫-৫০ টাকা আর বড় আকারের ফুলকপির দাম ৫৫ টাকা, বাঁধাকপি ২৫- ৩০টাকা, শিম প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা, গোল বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা , কচুর মুখি ৫০ টাকা, বরবটি ৯০-১০০ টাকা। খিরা ৫৫-৬০, পেঁপে ৩০, গাজর ২৫-৩০, টমেটো ৩০থেকে ৩৫ টাকা, মূলা ২০ থেকে ২৫ টাকা, আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮, দেশি আলু ৩৫-৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫টাকা , দেশি লাউ প্রতি পিস ৪০টাকা, মরিচ দাম বেড়ে ৫০টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ফল ৫০টাকা আর ধনেপাতা ৪০টাকায়।
এককেজি ওজন বা মাঝারি আকারের পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা আর বড় পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৯০ টাকায়। রুই-কাতলা মাছ আকারভেদে ২৫০-৩৫০ টাকা, শিং, মাগুর ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, আইড় মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। চাষের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২৫০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি চিংড়ি আকারভেদে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি। বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ১১০ টাকায় এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১১৮-১২০ টাকায়। এছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০- ৭০০টাকায় আর খাসির মাংসের কেজি ৯০০ টাকা। পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়।
এনাম নামে এক কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, কিন্তু বেতন বাড়ে না। নির্দিষ্ট বেতন, সারা মাস হিসেব করে চলতে হয়।
সালাউদ্দিন নামে এক চাকরীজীবি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে ।নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা জরুরি। দোকানদার ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে, একেক দোকানে একেক দাম।
দোকানদাররা বলছেন, পাইকাররা দাম বাড়ালে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে হয়।