চট্টগ্রামে পরিবেশের আইন অমান্য করে শতবর্ষী পুকুর ভরাটের অভিযোগ
কে এম রাজীবঃ চট্টগ্রাম নগরীর ৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা নিমতলা এলাকায় বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র না নিয়ে শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষে শরিফুল ইসলাম, আবুল কাশেম ও কাসেম সিকদার নামের তিন ব্যক্তি পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহীর কাছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর নিমতলা এলাকার হাজী গফুর সওদাগরের বাড়িতে শতবর্ষী পুকুরটির অবস্থান। প্রাচীনকাল থেকে পুকুরটি এলাকার মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করে আসছেন। পুকুরের আশপাশে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। লোকজন ঐ পুকুর থেকে পানির চাহিদা পূরণ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই পুকুরটি ভরাটের কাজ করছেন বলে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন অভিযোগ পত্রে । অথচ দেশের প্রচলিত আইনে জলাশয় ভরাট দন্ডনীয় অপরাধ হলেও চসিক বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই রাতের অধারে পুকুরটির ভরাট কাজ চলছে বলে জানা যায়।
অভিযোগে আরও জানা যায় , স্থানীয় লোকজন সোচ্চার হলেও প্রভাবশারী মহল ভরাটের কাজ বন্ধ করছেন না। যদিও ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জনগণের আশ্রয়স্থল রক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা করতে কোনো অবস্থায় খাল-বিল, পুকুর-নালাসহ প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা যাবে না এবং এর গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি পুকুর ভরাট করতে চায়, সে ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পুকুর ভরাটের অনুমতি লাগে। এমনকি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের জলাধার বা পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভরাটকারীর বিরুদ্ধে আইনের ৭ ধারায় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে পরিবেশগত ক্ষতি ও বিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এলাকাবাসীরা বলছেন
জনস্বার্থে পুকুরটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এক্ষুণি ভরাট কাজ বন্ধ করা জরুরী।
এ বিষয়টি সঠিক কিনা তা এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে ৩৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলী’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুর ভরাটের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা, আমাকে কেউ অভিযোগও করেনি। সরকারি আদেশ অমান্য করে পুকুর ভরাট করা এটা আইনগত অপরাধ। বিষয়টি আমি দেখে ব্যবস্থা নেবো। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মফিদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। তবে অভিযোগকারীদের ফোন নাম্বার ও তাদের সঠিক কোনো ঠিকানা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ না থাকায় তেমন কোনো তথ্য জানতে পারিনি। তবুও আমাদের লোক সরেজমিনে গিয়ে দেখেছে ওই এলাকায় একটি পুকুর ভরাট হচ্ছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।