শীতের শুরুতেই পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার


শীতের শুরুতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ভিড় লেগেছে। বিশাল সমুদ্র, হিমেল হাওয়া আর নীল জলরাশি উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

সমুদ্র সৈকতে বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ৩ দিন অতিরিক্ত পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সমুদ্র সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে হাজার হাজার পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা বালিয়াড়িসহ সাগরের নোনা পানিতে আনন্দে মেতেছেন। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ নজেই সেলফিতে মেতে উঠেছেন। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে পা ভেজাচ্ছেন, কেউবা সি বেঞ্চে বসে আছেন আরাম করে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন অনেকে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আনসারু হক জানান, অনেক দিন কক্সবাজারে আসবো আসবো বলে আসা হয়নি করোনা কারণে। অবশেষে শীতের শুরুতে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসলাম। অনেক দিন পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মুখ দেখে খুব ভালো লাগতেছে।

কক্সবাজার ছাড়াও পর্যটকেরা ইনানী, হিমছড়ি ও সেন্টমার্টিনেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকের আগমনে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে সৈকত এলাকার ফটোগ্রাফার, জেড স্কি ও বিচ বাইক চালকদের। একই সঙ্গে জমজমাট ব্যবসা বার্মিজ মার্কেটগুলোতেও।

করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ। মৌসুমের শুরুতে পর্যটকদের এমন ভিড়ে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে। করোনার সময়ের ক্ষতি কাটানোর আশা তাদের।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, মৌসুমের শুরুতে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি। এই সময়ে যে পরিমাণ পর্যটকের আগমন ঘটেছে এতে আমরা সন্তুষ্ট।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন জানান, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা কাজ করছে।সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চাপ থাকলেও অতিরিক্ত সদস্য দিয়ে প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশি টহল জোরদার করা রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে সচেতন করা হচ্ছে।

হোটেল মালিকদের দেয়া তথ্য মতে, প্রতিবছর শীতের মৌসুমে ১৫ লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.