শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িক বিষ উপড়ে ফেলতে হবেঃ সুকুমার চৌধুরী


স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশব্যাপী শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আগামীকাল ১৮ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাস মহোৎসব পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুকুমার চৌধুরী। বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে সুকুমার চৌধুরী জানান, রাসমহোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বিগত ৩৮ বছর ধরে চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী ও রাস মহোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী অনাথালয় ও অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, অনাথ ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ গীতাপাঠ, সন্ধ্যারতি, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাস মহোৎসব ও ভোগ, দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং করোনা মহামারী থেকে মুক্তির জন্য সমবেত প্রার্থনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে ৪ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাধু ও বৈষ্ণবদের সংবর্ধনা, রাষ্ট্রীয় অতিথিবর্গের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লীলা প্রদর্শনী, ষোড়শ প্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ। এসময় বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবদেন জানিয়ে বলেন, সহিষ্ণু ও অসাম্প্রদায়িক ধর্মীয় চেতনা ও চিন্তা দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারে।

প্রতিবারই ধর্মীয় অবমাননার অজুহাত তুলে সংখ্যালঘুদের মঠ মন্দির, দেবালয়, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে, নিরীহ সনাতনীদের হত্যা করা হচ্ছে, মা বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। আমরা চাই প্রকৃত চিহ্নিত দুষ্কৃতকারীদের কঠোর শাস্তি ব্যবস্থা করা হোক, কিন্তু কোনও নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে অভিযুক্ত না হয়। মায়ানমারের জাতিগত সহিংসতার শিকার ১৫ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী এদেশে আশ্রয় দিয়েছেন, তাহলে কেন এদেশের আড়াই কোটি হিন্দু তাদের পিতৃভূমিতে নিজের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে না? শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের দাবি বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িক বিষ উপড়ে ফেলতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত মঠ মন্দির, আশ্রম দেবালয়সমূহ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পুনঃনির্মাণ করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিভ্রান্তিকর মিথ্যা মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। দুর্গাপূজায় ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করতে হবে।

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুজিত কুমার বিশ্বাস, পরিষদ কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধন ধর, পরেশ চৌধুরী, লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, লায়ন তপন কান্তি দাশ, তাপস কুমার নন্দী, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, সর্বমঙ্গল গৌরহরি দাস ব্রহ্মচারী, মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, সুমন দেবনাথ, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, লায়ন ডা. বিধান মিত্র, প্রকৌশলী সুভাষ গুহ, মিথুন মল্লিক, আশীষ চৌধুরী, এস প্রকাশ পাল, সলিল গুহ, মৌসুমী চৌধুরী, ডা. বিদ্যুৎ দাশগুপ্ত, সমীরণ মল্লিক, অনুপম দাশ অপু, প্রকৌশলী তুহিন রায়, রতন রায়, পরিমল দত্ত ও লায়ন সন্তোষ কুমার নন্দী।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.