উদ্ভোধনের অপেক্ষায় সোয়ালক রাবার ড্যাম সেতু
মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অর্থায়নে সুয়ালক খালের উপর নির্মিত হয়েছে ৪৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম সেতু।
১১কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই সেতু টি উন্মোক্ত হলে চাষাবাদের আওতায় আসবে খালের দুই পাড়ের ৭০০ হেক্টর অনাবাদি কৃষিজমি।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে সেচ সুবিধা না থাকায় সুলতানপুর ও পুরানগড় এলাকার কৃষকরা পানির অভাবে চাষাবাদ করতে পারতেন না।
সেতুটি উন্মুক্ত হলে স্থানীয় কৃষকদের পানির অভাবে কোনো মৌসুমেই আবাদ বন্ধ রাখতে হবে না। অন্যদিকে, স্থানীয় জেলেরাও সারা বছর মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
শুধু তা-ই নয়, বর্ষায় খালের পানি বেড়ে গেলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় জনসাধারণ, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের।
যাতায়াতের কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনা-নেওয়া করাটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিলো।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) তথ্যমতে, ২০১৯ সালে সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় সুয়ালক খালের ওপর ৪ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থ ও ৪৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
১১ কোটি টাকা ব্যয়ে যৌথ ভাবে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নির্মাণ কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমকে অ্যান্ড এসই।
সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান উক্যনু মার্মা বলেন, রাবার ড্যাম চালু হলে সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা।
সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় শত শত হেক্টর ফসলি জমি সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকত। এখন তা আর হবে না। ফসল ফলবে। এতে স্থানীয় কৃষক পরিবারে আসবে সচ্ছলতা।
বান্দরবান বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী আবু নাইম প্রতিবেদককে বলেন, ইতোমধ্যে রাবার ড্যামটির ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে খালের দুই পাড়ে ব্লক বসানোর কাজ।
তিনি আরো বলেন, রাবার ড্যামটি চালু হলে বর্ষায় রাবার ড্যামের মাধ্যমে একদিকে পানি সংরক্ষণ করে সেচ-সুবিধা পাবে কৃষকরা, অন্যদিকে সেতুর কারণে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে স্থানীয়দের জীবনমানে পরিবর্তন আসবে।
আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে। কাজ শেষ হলে খুব শীগ্রই প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হবে।