চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যবসা জগতে দাঁড়াতে নারীদের আগ্রহ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুরুষের সাথে সমানতালে কাঁধ মিলিয়ে ব্যবসা জগতে এসে দাঁড়াতে অনেক নারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তাদের অভিমত সমাজের অবহেলিত আর পরিবারের বোঝা হয়ে পিঁছিয়ে পড়ে থাকার সময় নেই, এখন সময় এসেছে দিন বদলের পালা।
প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে শিক্ষিত হয়ে ঘরে বসে থাকার সময় নেই, তাই প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশকে অর্থনৈতিক উন্নতি ও নিজেকে সাবলম্বী করতে শিক্ষিত হয়ে চাকুরীর পিঁছনে না ছুটে নিজেকে উদ্যোক্তা হতে হবে। এভাবে এগিয়ে ছিলেন নারী জাগ্রতের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেন।
হাটহাজারীতে সম্প্রত নতুন এক তরুণ উদ্যোক্তা গার্লস বিউটির সত্তাধিকারী অনুপমা গোস্বামী বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই স্বাধীনতা, কর্মঠ এবং উদ্যোক্তাকে ভালোবাসি। আধুনিক যুগে নারীরা এখনো অনেক পিঁছিয়ে পড়ে আছে বলেই নারীদেরকে সমাজের বোঝা হিসেবে মনে হয়। তবে আজ দেশে অর্থনৈতির মূল চালিকা শক্তি গার্মেন্টস সেক্টরের অনন্য অবদান রেখে চলেছেন নারীরা। চাইলে আমরাই পারবো এগিয়ে নিতে দেশ। নিজে কর্মমূখী এবং অন্য নারীদের কর্মস্থলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে নারীরা এমন প্রতিজ্ঞা নিয়ে ছোট্ট পরিসরে ব্যবসায় এসেছি। ক্রমান্বয়ে বৃহত্তর পরিসরে অগ্রগতির কামনা করে এই তরুণ নারী উদ্যোক্তা বলেন, ব্যবসা জগতে এসে দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের অনেক পুঁজির দরকার কিন্তু নারীদের হাতে তেমন পুঁজি থাকে না। টাকা হলো ব্যবসার মূল চালিকা শক্তি। তাই ব্যাংক প্রতিষ্টানগুলো যদি নারী উদ্যোক্তাদে জন্য অতি সহজ এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করে তাহলে সমাজরে নারীরা আর পিঁছিয়ে থাকবে না বলে মনে করেন তরুণ ব্যবসায়ী অনুপমা গোস্বামী।
আরেক তরুণ নারী উদ্যোক্তা গার্লস সপ এর সত্বাধিকারী ছাবেরুন নাহার বলেন, জীবনের সফলতা আনতে অলস হয়ে বসে না থেকে সমাজে পিঁছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে এবং নারীরাও করতে পারে জয় সে বাস্তবতাকে নিয়ে ব্যবসায় এসেছি। জীবনে সফলতা আনতে হলে ধৈর্য্য এবং অধ্যবসার দু’টোর প্রয়োজন। ২০১৭ সালে মাত্র ৩ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে একটি দোকান নিয়ে ব্যবসার যাত্রা হলেও মাত্র ৪ বছরে স্বয়ংসম্পূর্ণ দুইটি দোকান করে বর্তমানে ৬ লক্ষ টাকার উপরে তার মূলধন। সমাজের শিক্ষিত নারীদের ব্যবসায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তরুণ এই নারী উদ্যোক্তা। হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তার বেগম বলেন, আমি একজন মহিলা। তাই মহিলাদের জন্য কাজ করার অধিক আগ্রহ নিয়ে নির্বাচনে এসেছিলাম। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। নারীরা যেন ব্যবসায় এসে কোন ধরণের হয়রানি, ইভটিজিংসহ প্রতিকূলতার কাছে হেরে না যায় সে জন্য উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে সব ধরণের সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেন এই নারী।
জনপ্রতিনিধি মুক্তার বেগম আরো বলেন, নারীরা যাতে স্বাধীনভাবে বসবাস ব্যবসা বাণিজ্য অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজে যাতায়াতকালে ইভটিজিংসহ কোনো প্রতিকুলতার কাছে হেরে না গিয়ে আপদকালীন সময়ে জয়ী হতে পারে সে জন্য হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে মহিলা কারাতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার করেছি। নারীরা যেন সমাজে পিছিয়ে পরে না থাকে সে জন্য সকল নারীকে কর্মমূখী হওয়ার আহ্বান জানান হাটহাজারী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তার বেগম মুক্তা।