করোনা প্রতিরোধে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হতে হবে: ডাঃ অং সুই প্রু মারমা


মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবান জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকাংশে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ি নতুন করে করোনায় আক্রান্তের বিশ্লেষণে আগের চেয়েও বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন।

জেলায় করোনা বিস্তার রোধ ও এর প্রতিকারের সঠিক দিকনির্দেষনা বিষয়ে ৪ই আগস্ট বুধবার সকাল ১১টায় বান্দরবান সিভিল সার্জন ডাঃ অং সুই প্রু মারমা এর সাক্ষাৎকারে তিনি প্রতিবেদক কে জানান জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এর প্রধান কারণ আগের চেয়ে এখন অনেক জনসাধারণ করোনা টেস্টের আওতায় এসেছে।
এইদিকে জেলা সদরের সাধারন মানুষের মাঝে পূর্বের চেয়ে বেশি করোনা সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফ্রি করোনা পরিক্ষার সুযোগ থাকায় অনেকেই করোনা টেস্ট করছেন নিজের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে। জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে গ্রহণ করা হয়েছে ফ্রি করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন প্রক্রিয়া।

রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান ইউনিটের উদ্যোগে করোনা ভ্যাকসিন নিতে আশা জনসাধারণের অসুবিধা লাঘবে ব্যবস্থা করা হয়েছে অপেক্ষাগার। এছাড়াও সদও হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে জিন এক্সপার্ট মেশিন যার কারনে করোনা টেস্ট এর পরিক্ষার ফলাফল যানতে বেশি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না কাউকেই।

সদর হাসপাতালে করোনা ভ্যাকসিন নিতে আশা জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি না মানর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান সামাজিক দুরত্বের বিষয়ে কম বেশি এখন সবাই যানে এর পরেও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান ইউনিট এর সেচ্ছাসেবক এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চেস্টা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে করোনা টিকা দিতে আশা জনসাধারণকে সুবিধা প্রদান করতে পারে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবনতার বিষয়ে তিনি জনসাধারণের নিজের সচেতনতার দিকে জোর দেন।

তিনি আরো জানান, ৭ ই জুলাই হতে বান্দরবান জেলার সকল উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালু করা হবে।করোনা সচেতনতায় সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি কওে দেয়া হয়েছে।কমিটির কাজ হচ্ছে নিজ ওয়ার্ডে করোনায় আকান্ত রোগিকে হোম আইসোলেশন এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে যেনো অন্য কেউ আক্রান্ত না হয় সে জন্য রোগিকেই বেশি সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত ব্যাক্তিকে সব সময় মাক্স পরিধান করে চলতে হবে। পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করতে হবে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে যেনো সামাজিক ভাবে আলাদা ভাবা না হয় ।কোন এলাকার করোনায় আক্রান্ত রোগী যদি হোম কোয়ারাইন্টাইনে না থাকে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং প্রশাসনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

ডাঃ অং সুই প্রু মারমা আরো জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ৩৭ হাজার করোনা ভ্যাকসিন মজুদ আছে এবং আগামী কয় দিনের মধ্যে আরো ৩২ হাজার ৮ শত করোনা ভাকসিন আমাদের হাতে এসে পৌছাবে।জেলায় আজকের দিন পর্যন্ত ৩০ হাজারের মত জনসাধারণকে করোনা ১ম ডোজ দেয়া হয়েছে এবং ১৮ হাজার এর মত ২য় ডোজের টিকা চলমান আছে।নতুন করে ভ্যাকসিন হাতে পৌছানোর পর আমরা তা উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌছে দিবো।

ইতি মধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান ইউনিটের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা,ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম চৌধুরী এবং সেক্রেটারী অমল কান্তি দাশ সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে মাঠ পর্যায়ে কিভাবে করোনা প্রতিরোধে কাজ করা হবে তার কর্মপরিকল্পনা হয়েছে। মূল কথা করোনা প্রতিরোধে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে আমরা এর ভালো সুফল আশা করতে পারি।

তিনি জনসাধারণের মাঝে মাক্স পরার সচেতনতার বিষয়ে বিশেষ ভাবে জোর দেন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.