রাঙ্গামাটিতে উদযাপিত হল শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা


চিরন বিকাশ দেওয়ান রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাঙ্গামাটিতে উদযাপিত হল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)।

বৌদ্ধ ধর্মের অমর প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব এবং মহাপরিনির্বাণ (মহাপ্রয়াণ) লাভের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত ঘটনাবহুল এ গৌরবান্বিত দিবসটি প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হয়ে থাকে।

করোনাভাইরাসের কারণে মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালিত হয়েছে এই কর্মসূচি।

তথাগত ভগবান মহামতি গৌতম বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত এ পূর্ণিমা তিথি বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও আগে এ পবিত্রতম তিথিতে মহামানব রাজকুমার সিদ্ধার্থ কপিলাবস্তুর নিকটবর্তী লুম্বিনী উদ্যানে জন্মলাভ করেন। পরে একই তিথিতে দীর্ঘ ছয় বছরের কঠোর তপস্যার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির নৈসর্গিক গয়ার বোধি বৃক্ষমূলে গৌতমবুদ্ধ রূপে আবির্ভাব হয়ে বুদ্ধত্ব বা বোধিলাভ করেন।

সেই থেকে সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ থেকে সর্বশেষ একই তিথিতে জীবদ্দশার অবসান ঘটিয়ে ৮০ বছর বয়সে কুশিনগরের শালবনে মহাপরির্বাণ লাভ করেন।

মঙ্গলবার শুরু হয়েছে নতুন বুদ্ধবর্ষ ২৫৬৪ বুদ্ধাব্দ। পবিত্রতম এ তিথি উপলক্ষে করোনা থেকে পরিত্রাণসহ বিশ্বশান্তির কামনায় সকালে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার মহামঙ্গল সূত্র (বুদ্ধের মঙ্গল বাণী) প্রচার করেছেন।

এ ছাড়াও রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষু, উপাসক-উপাসিকা ও সেবক-সেবিকা বুদ্ধপূজা, পিণ্ডদান, প্রাতরাশ, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, প্রদীপ পূজাসহ দিনব্যাপী ঘরোয়া পরিবেশে অনাড়ম্বর কর্মসূচি পালন করেছেন। সন্ধ্যায় বিহারে বিহারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.