ভূজপুর হত্যাকাণ্ডে ভূক্তভোগীদরে আসামির হুমকি, বিচারের দাবীতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন


চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির ভূজপুরে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপি জামাতের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ আট বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত মামলার কোনো বিচারতো হয়নি বরং আসামিরা হত্যাকান্ডের শিকার ভূক্তভোগীদের উল্টো হুমকি প্রদান করছেন এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী একাধিক পরিবার।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, নিহত সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ফারুক ইকবাল বিপুলের স্ত্রী সানজিদা আফরিন নিসু।

লিখিত বক্তব্যে সানজিদা আফরিন জানান, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল মসজিদের মাইকে ডাকাত ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির । মিছিলে পিটিয়ে হত্যা করে সেচ্ছসেবক লীগের নেতা ফারুক ইকবাল বিপুল, উপজেলা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ ফোরকান ও ছাত্রলীগ কর্মী মো রুবেল কে। এ ঘটনায় আহত হয় তিন শতাধিক নেতাকর্মী, যাদের অনেকেই বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন যাপন করছে। অথচ ঘটনার আট বছর অতিবাহিত হলেও মামলার আসামিরা বীরদর্পে এখনো হুমকি প্রদান করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, আসামিরা ক্ষমতাধর হওয়াতে পুলিশের সাথে পরস্পর যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইকবাল হোসেন মোল্লা জালাল ও তৌফিককে মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আসামিদের অনেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। এখন তারাই মামলার বাদীদের হুমকি দিচ্ছে। এবং মূল আসামিদের মামলার চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ায় আদালতে নারাজি দিয়েছে বলে জানান ভূক্তভোগীরা।

সানজিদা আরও জানান, সেদিন আমার স্বামী বিকাল চারটার মধ্যে ফিরে আসার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। মিছিলে মিছিলে হামলার সময় আমার স্বামী বিপুল পার্শ্ববর্তী একটি হিন্দু বাড়িতে আশ্রয় নেয়, সেখান থেকে তাকে টেনে নিয়ে যায় আসামিরা। তারপর তাকে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে পশুর মতো পিটিয়ে হত্যা করে। সেদিন আমার স্বামী আসামিদের পায়ে ধরে বলেছিলো, আমার দুটো ছোট ছোট বাচ্চা আছে বউ আছে, তাদের কেউ নেই আমি ছাড়া আমাকে মেরো না। হত্যাকারীরা শুনানি সেই আকুতি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নিহত যুবলীগ নেতা ফোরকানের মা ফেরদৌস বেগম, পিতা এজাহার মিয়া, বোন এ্যানি আক্তার, নিহত ছাত্রলীগ নেতা রুবেলর মা শামসুন্নাহার ও ভাই শহিদুল আলম।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.