চট্টগ্রামে বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে ভূমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আদালতের আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্রয়কৃত মালিকানা সম্পত্তি একটি মহল অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম খানের পক্ষে, এড. মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন।
এসময় তিনি জানান, ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন রহমতগঞ্জ মৌজার অধীনে রেজিষ্ট্রী মূলে সম্পত্তি ক্রয় করে দলিল মূলে সম্পত্তির মালিক হন ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম খান। সম্পত্তি খরিদ করার পূর্বে ওই সম্পত্তির উপর পূর্ববর্তী বায়ারের দেয়া আগ থেকে বাউন্ডারী প্রাচীর ছিল যা আজ অবধি বিদ্যমান। পরবর্তীতে একটি মহল বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে আরিফুল ইসলাম খানের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করার জন্য বিভিন্নভাবে অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন এবং মামলা মোকদ্দমায় জড়িত করে হয়রানি করে। পরবর্তীতে মহামান্য অতিরিক্ত জেলা জজ ৬ষ্ঠ আদালত, চট্টগ্রাম আমাদের সকল কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে তাদের পক্ষে রায় ডিক্রী প্রদান করেন এবং প্রতিপক্ষগনের দায়ের করা মামলায় ডিক্রী না পেলে প্রতিপক্ষগন পরবর্তীতে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন যাহা বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান আরিফুল ইসলামের পক্ষে এড. মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন।
এসময় তিনি আরও জানান, আমি আওয়ামীলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আতাউর রহমান কায়সারের ছোট ভাই (ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম খান)। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করেই আমরা বাংলাদেশে বসবাস করছি। তাই আপনাদের মাধ্যমে আমার বিনীত অনুরোধ সংশ্লিষ্ট দফতরে বিতর্কিত একটি সম্পত্তির উপর যা মামলা মোকদ্দমা চলমান তার দেয়ালের উপর বঙ্গবন্ধুর মোড়াল তৈরির যে উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট জামাল খান ওয়ার্ড কমিশনার গ্রহণ করেছেন, তিনি যেন তা থেকে বিরত থাকেন। যেহেতু আমার সমস্ত কাগজপত্র ও দলিলাদি সব উপযুক্ত প্রমাণপত্র আদালতে উপস্থাপন করেই রায় ডিক্রী পেয়েছি এবং আপিলের পরবর্তীতেও আদালত আমার পক্ষেই আইনীভাবে রায় প্রদান করবেন বলে আমি আশাবাদী। কাজেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মোড়াল নিশ্চয় আমি নিজেই করে দেবো আমার বাউন্ডারী প্রাচীরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনারকে সাথে নিয়ে। আপনাদের মাধ্যমে আমার অনুরোধ বঙ্গবন্ধুর মোড়াল ব্যবহার করে বিচারাধীন বিষয়ের উপর জাতিয় কোন ইস্যু যেন সৃষ্টি করা না হয়। কারণ এই ইস্যু নিয়ে হয়তো বা প্রতিপক্ষ আমার বিপক্ষে আমার সম্পত্তি গ্রাস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হবে।
এডভোকেট মোঃ ইলিয়াছ উদ্দীন আরো জানান, আমি আদালতের আদেশ পরবর্তী সেখানে যা যা করার সব কিছুই নিজের অর্থায়নে করবো। আমি মোড়ালের বিরোধিতা করছি না শুধু বিচারাধীন বিষয়ের রায়কে গুরুত্ব দিতে বলছি। কারণ ভবিষ্যতে বাউন্ডারী প্রাচীর এর অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য আমার গেইট নির্মাণ করা হবে যেখানে এই বিষয়টি একটি বড় বাধা হতে পারে। কিংবা আমি ভবনটি ডেভেলপমেন্টে দিতে পারি যেখানে হয়তোবা ইমারত নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক কিছুরই পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এই বিষয়টি তখন একটি জাতীয় ইস্যু তৈরি হয়ে যেতে পারে এবং আমাকে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। কাজেই আমি চাই না এমন কিছুর সৃষ্টি হোক। তাই আজ আপনাদের মাধ্যমে আমি বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আদালতের রায়ের পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে আমাদের জাতির পিতার এবং বাঙ্গালী জাতির গর্বিত ইতিহাস আমার নিজের অর্থায়নে তুলে ধরব বাউন্ডারী প্রাচীরে।