৩২৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ


রেকর্ড বইয়ে অসংখ্য আঁকিবুঁকিও করে ফেলেছেন তামিম। আর তার রেকর্ডময় এই ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়েকে ৩২৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শুরু থেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ১০৬ বলে ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। এরপর ২৩ ইনিংস ও প্রায় দুই বছর পর পাওয়া সেঞ্চুরিকে দেড়শ’তেও পরিণত করেছেন তিনি। এজন্য এই বাঁহাতি ওপেনার খেলেছেন ১৩২ বল। এরপরও অবশ্য থামেননি তিনি। ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক আগে থেকেই ছিলেন তামিম। এবার সেই রেকর্ডও তিনি নিজেই ভেঙেছেন। এর আগে ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১৫৪ রান করেছিলেন তিনি। ১০ বছরের বেশি সময় অক্ষত ছিল এই রেকর্ড। তবে রেকর্ড স্পর্শ করে ৪ রান যোগ হতেই বিদায় নিয়েছেন তামিম। ১৩৬ বলে তার ১৫৮ রানের ইনিংসটি ২০টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো।

বিদায় নেওয়ার আগে একটি অসাধারণ রেকর্ড গড়েছেন তামিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক এতদিন ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (১৫৪৯)। তাকে পেছনে ফেলে এখন শীর্ষে তামিম (১৫৫৬)। ১৪০৪ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান।

রানে ফেরার দিনে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন তামিম। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ৭ হাজার রানের মাইলফলক গড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৬৯১৬ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন তামিম। এরপর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ৫০ ওভারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ৪৮তম ফিফটি।

ফিফটিকে ১২তম সেঞ্চুরির দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে ৭ হাজার রানের মাইলফলকের চূড়ায় ওঠেন ৩০ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তাকে ৭ হাজারি ক্লাবে নাম লেখাতে খেলতে হয়েছে ২০৬ ম্যাচ ও ২০৪ ইনিংস। তার গড় ৩৫.৮৭। সর্বোচ্চ স্কোর ১৫৪।

আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে রান সংগ্রহের তালিকায় তামিমের পরে আছেন দুই বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞায় (এক বছর স্থগিত) থাকা সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার ২০৬ ম্যাচ ও ১৯৪ ইনিংসে ৩৭.৮৬ গড়ে করেছেন ৬৩২৩ রান। সাকিবের ৯ সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ৪৭ ফিফটি।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৩ হাজার রানের চূড়া স্পর্শ করেন তামিম। অবশ্য এই কীর্তি তিনি আগেই গড়েছিলেন। তবে তার আগের ১৩০১৪ রানের মধ্যে আইসিসি বিশ্ব একাদশের হয়ে ছিল ৫৭ রান।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো শুরু এনে দেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম ও লিটন দাস। কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেসার কার্ল মুম্বার করা ইনিংসের ৭ম ওভারে তামিমের শটে বল বোলারের হাতে লেগে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। ফলে রানের জন্য ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া লিটন দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হয়ে ফেরেন। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন এই ম্যাচে করলেন ১৪ বলে ৯ রান।

লিটনের পর দুর্ভাগ্যের শিকার হন নাজমুল হোসেন শান্তও। এবার রান নিতে না চাইলেও তামিমের ‘ইয়েস’, ‘নো’, ‘ইয়েস’র বিভ্রান্তিতে পড়ে বিদায় নেন শান্ত। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ বলে ঝড়ো ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৬তম ওভারে ওয়েসলি মাধেভেরের চতুর্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে টিনোটেন্ডা মুতোমবোজির ক্যাচে পরিণত হন। ৫০ বলে ৬টি চারে ৫৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

মুশির বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ১০৬ রানের জুটি গড়েন তামিম। মাহমুদউল্লাহও দারুণ ব্যাট করছিলেন। কিন্তু তুলে মারতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে যুব বিশ্বকাপ খেলা মাধেভেরের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হন ৫৭ বলে ৪১ রান করা এই ব্যাটসম্যান। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৩৪ রান যোগ করে বিদায় নেন তামিম।

দলকে ৩০০ রান থেকে ৮ রান দূরত্বে রেখে তামিম বিদায় নেওয়ার পর মুম্বার বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ (৫)। টিকতে পারেননি মাশরাফিও (১)। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে জিম্বাবুয়ের পেসার তিরিপানোর বলে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক। তিরিপানোর করা ওই ওভারেই কোনো রান না করেই বিদায় নেন তাইজুল। শেষ ওভারে মিঠুন আর শফিউল মিলে যোগ করেন ৯ রান। মিঠুন অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ৩২ রান নিয়ে।

বল হাতে জিম্বাবুয়ের মুম্বা ও তিরিপানো ২টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মাধেভেরে ও তাশুমা।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.