বিমানবন্দরে বসানো হল বডি স্ক্যানার


চোরাচালান রোধ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে বিমানবন্দরে বসানো হল বডি স্ক্যানার। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীদের বডি স্ক্যানিংয়ের এই আধুনিক ডিজিটাল যন্ত্রটি উদ্বোধন করা হবে শীঘ্রই। ওই মেশিনটি যাত্রীর শরীরে কী আছে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণয় করবে। যন্ত্রটির মধ্যে যেকোন যাত্রীকে ঢুকিয়ে দুই হাত উপরে তুললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান হয়ে ছবি দেখাবে স্ক্রিনে। শরীরের কোন্ কোন্ স্থানে ধাতব বস্তু আছে তা দেখা যাবে পাশে থাকা কম্পিউটার স্ক্রিনে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় বসানো হয়েছে এ যন্ত্রটি।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে সবানো হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন বিমানবন্দরের আরো সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ধীরে ধীরে ডিজিটাল পদ্ধতির দিকে এগুচ্ছি আমরা। তাই চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও আধুনিক করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণশুনানিতে অংশ নিতে এসে স্ক্যানারটির কার্যক্রম দেখেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। পরীক্ষামূলকভাবে তিনি স্ক্যানারের ভেতর ঢুকে দেখেন। এ সময় স্ক্যানারটি নিখুঁতভাবে তার ইমেজ ডেলিভারি দেয় স্ক্রিনে।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার ই জামান বলেন, ‘চোরাচালান রোধ ও যাত্রীর বেশ ধরে কোনো সন্ত্রাসী যাতে প্লেনে অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে শাহ আমানত বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’। এটি বসাচ্ছে জাইকা। তারাই যাবতীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। যা আগামী এপ্রিল মাস থেকে চালু হতে পারে।’

সূত্র জানায়, জাইকার অর্থায়নে স্ক্যানারটি বসানো হয়েছে। ৮ ফুট উঁচু ছোট্ট একটি কাঁচের ঘরের মতো দেখতে স্ক্যানারটিতে যাত্রী যদি অন্তর্বাসের ভেতর লুকিয়েও অস্ত্র, বিস্ফোরক, বোমা তৈরির উপকরণ নিয়ে প্লেনে ওঠার চেষ্টা করে তবে তা স্ক্যানারে সংযুক্ত মনিটরে ধরা পড়বে। মেটালিক, নন-মেটালিক, উইপনস, স্ট্যান্ডার্ড ও হোম মেড বিস্ফোরক (শিট ও বাল্ক), লিক্যুইডস, জেলস, প্লাস্টিকস, পাউডারস, সিরামিক ইত্যাদি ধরা পড়বে। একজন যাত্রীকে স্ক্যান করতে সময় লাগবে দেড়-দুই সেকেন্ড। ঘণ্টায় দুই-তিনশ যাত্রীকে স্ক্যান করা যাবে। ‘প্রোভিশন ২’ বডি স্ক্যানার বসানো হচ্ছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী বিমানবন্দরে। এ ধরনের স্ক্যানার আর্ন্তজাতিক সব বিমান বন্দরেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে গত বছর ১৭ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। ওই বছরে ২ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন কার্গো রপ্তানি ও ৬ হাজার ৮৮১ মেট্রিকটন কার্গো আমদানি হয়েছে এ বিমানবন্দর দিয়ে। গত ১০ বছরে ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে ১.৮ গুণ এবং যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.১২ গুণ। কার্গো বেড়েছে ৮.৯ গুণ। বর্তমানে ৯টি আর্ন্তজাতিক রুটে ৩টি বিদেশি সংস্থাসহ ১১টি বিমান সংস্থা চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন করছে। এখানে দৈনিক ৪০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। সপ্তাহে যাতায়াত করছেন ৫৬০ জন যাত্রী।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.