বাংলাদেশের ইতিহাসে একুশে আগষ্ট আরেকটি কালো অধ্যায়


কে এম রাজীব : স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ঘাতকের গোষ্টী ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হলেও বিদেশে অবস্থান করার কারণে সে রাতে বেঁচে যান দুই বোন। এর পরেও ক্ষ্যান্ত থাকেনি ঘাতক গোষ্ঠী। শেখ পরিবারকে বিলীন করতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্রে এখনো পর্যন্ত লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু দুবোনের উপর থেকে লক্ষ্য সরে যায়নি তাদের। তারা চেয়েছিলো দুইজনকে হত্যা করতে পারলে শেখ পরিবারের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবেনা উজ্জীবিত হবেনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তাতে কিন্তু সফল হয়নি ঘাতকের গোষ্টীর। সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে, কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়ানা করে , দেশের টানে, বাংলার মানুষের ভালোবাসার টানে, পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১৯৮১ সালে নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশে আসেন বঙ্গবন্ধুর সাহসী কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। যাকে শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত হত্যার চেষ্টা মগ্ন স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষ ঘাতক গোষ্ঠী। তারা ৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারির হামলা ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্যে দিয়ে। আজ সেই হত্যা চেষ্টার স্মৃতি একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ১৯ বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারির হামলা ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা তা নয়, তাঁর উপর এর আগেও বুহুবার হামলা চালায় ঘাতকেরা। কিন্তু সফল হয়নি।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ওইদিন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। সেদিন একটি ট্রাককে উন্মুক্ত মঞ্চ করা হয়েছিল। সেটিকে ঘিরে বিকেল ৪টা থেকেই দলীয় ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিড় করছিলেন। পুরো এলাকা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত ছিল। বিকেল ৫টায় সমাবেশ স্থলে আসেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা। টানা ২০ মিনিট বক্তব্য দিলেন তিনি। পরে ‘ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল মঞ্চটি। এরপর আরও বেশ কয়েকটি জোরালো শব্দ, এর মাঝ থেকে ছুটে আসছে মানুষের আর্তনাদ। ট্রাকের উপর মানব দেয়ালে ঢাকা ছিলো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি বুঝে শেখ হাসিনাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে তার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। ওই গাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি ছোঁড়ে হামলাকারীরা।

ওই সময় নেতা কর্মীদের নিয়ে রাস্তায় বসেছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমান। গ্রেনেডে আঘাতে তাৎক্ষণিক গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তার। নিহত হন মোট ২৪ জন। আহত হন দল ও সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী। বাংলাদেশের ইতিহাসে একুশে আগষ্ট আরেকটি কালো অধ্যায়। একুশে আগষ্টে হামলার খবর মুহূর্তেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ভয়ংকর ঘটনা পুরো বিশ্বকেই নাড়া দিয়েছিলো। বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ঘটনার পর থেকেই খবরটি প্রচার শুরু করলে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে সারা বিশ্ব থেকেই। হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। ওই ঘটনায় মামলা করে আওয়ামী লীগ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়।

আজ একুশে আগস্ট সেই ভয়াবহ বিভীষিকাময়, বর্বরোচিত ও বীভৎস হত্যাযজ্ঞের উনিশতম বার্ষিকী। আজকের এই দিনে গ্রেনেড হামলায় সকল শহীদদের এবং পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.