মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলায় লাঞ্চিত সাবেক সভাপতি


ফেনীর ফুলগাজীতে ফয়জুন্নেছা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রবল বর্ষণ, বজ্রপাত চলাকালীন সময়ে ছুটি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার পর একজন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে গেলে এটার প্রতিবাদ করতে গিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের
পক্ষে কথা বলতে গিয়ে আমজাদ হাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মাদরাসার সাবেক সভাপতি সুরুজ্জামানকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর পর মাদ্রাসার আশপাশের ব্যবসায়ীরা ও অন্যন্য অভিভাবকরা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজ্জামানের মত একইভাবে বৃষ্টি কমলে শিক্ষার্থীদের বের হতে দিলে ভালো হতো এমন কথা কর্তৃপক্ষকে বললে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অন্যদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা বলেছেন ভিন্ন কথা। এদিকে সুরুজ্জামান আদালতে ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ থানাতে পৃথক পৃথক অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানা যায়।

সুরুজ্জামান জানান, এই মাদ্রাসার আমি সভাপতি থাকাকালীন উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দূনীর্তির সব সময় প্রতিবাদ করতাম। এর জের ধরে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলাকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ ও মাদরাসা সভাপতি আমাকে হেনস্থা করে। বর্তমান মাদরাসার সভাপতি আমজাদ হাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানান সুরুজ্জামান।

জানা গেছে, গত ১৯ জুন রোববার ফেনীর ফুলগাজীর আমজাদ হাটের নোয়াজ ফয়জুন্নেছা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় প্রবল বর্ষণ, বজ্রপাত চলাকালীন সময়ে ছুটি দেয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। অধ্যক্ষের এমন কথা শুনে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টায় বৃষ্টির মাঝে ছুটাছুটি করতে গিয়ে একটি ছাত্রী পানিতে পড়ে যায়। পরে বৃষ্টিতে ভেজা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করায়, কয়েকজন বিষয়টি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি সুরুজ্জামানকে জানান। পরবর্তী বিষয়টি জানতে ও খোঁজখবর নিতে সুরুজ্জামান মাদারাসায় গেলে এ সময় বিএনপির নেতা ও মাদরাসার সভাপতি এবং অধ্যক্ষের হাতে হেনাস্থা,অপমানের শিকার হন বলে জানান এবং বিষয়টাকে এরা অন্য দিকে নিয়ে যায়। তারা আরও বলে আমি নাকি শিক্ষকদের মারতে গেছি। আরো কতকি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি সুরুজ্জামান ৭৫ বছর বয়সী। শারিরিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনি। এ বয়সে সেখানে মারামারি করতে যাওয়া হাস্যকর বলে আশাপাশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী ও অভিভাবকরা জানান। কয়েকজন
ব্যবসায়ী বলেন, সুরুজ্জামান আমজাদ হাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও নোয়াজ ফয়জুন্নেছা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি। অত্যন্ত সৎ এই ব্যক্তি সভাপতি থাকাকালীন সময়ে অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করতেন। যার ফলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার বিষয়কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ ও মাদরাসার সভাপতি এই দুজনের কাছে হেনেস্থার শিকার হন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আসলে আমাদের সমাজে ভাল কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তারা জানান, মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির এমন আচরণ দেখে আমাদের কাছে খারাপ লাগলো।

এ বিষয়ে সোমবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে সেল ফোনে আমজাদ হাট নোয়াজ ফয়জুন্নেছা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সুপারেন্টেন জয়নাল আবেদীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা ছুটির পর যে যার মত পারছে বাড়ি যাচ্ছে। কেউকে জোর করে মাদরাসা থেকে বের হতে বলা হয়নি। এ তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সুরুজ্জামান সাহেব মাদ্রাসা এসে উত্তোজিত হন। এ বিষয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় সবাইকে থানায় ডাকা হয়েছে বলে তিনি জানান।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.