প্রবীণ আ’লীগ নেতা আখতার উদ্দীন তালুকদারের আবেগঘন স্ট্যাটার্স


একটা সময় ছিল যখন রাজনীতি বলতে মানুষের সেবা, সুযোগ সুবিধে, দেশের চিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজনীতির প্রচার হতো, প্রসার হত।

যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও দেশের সেবায় বদ্দ-পরিকর, মুক্তিযুদ্ধের পর ৭৫ হতে ৯০ সাল ছিল আওয়ামীলীগ এর জন্য সবচেয়ে নির্মম ও অসহায়ত্বদের দিন। যেখানে তখনকার কেন্দ্রিয় সরকার যারা ছিল তাদের খুটি মজবুত ছিল। আর আমরা যারা মনে প্রানে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ভালোবাসতাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলাম তারা দেশের স্বার্থে কাজ করতাম, মানুষের স্বার্থে কাজ করতাম। মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য রাজনীতি করতাম।

জীবন- যৌবন সব রাজনীতির জন্য বিলিয়ে দিয়েছি। কতই’না নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, জেল-কারারুদ্ধ হতে শুরু করে শারিরিক নির্যাতন কত এলো গেলো তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নুয়ে পড়ি’নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’কে ধারণ করে আওয়ামীলীগ এর খুটি মজবুত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি, যদি চাইতাম তাইলে আজ অনেক টাকা-পয়সার মালিক ও হতে পারতাম যদি দূর্নিতির ঘ্রান আমাকে ছুতে পারত, তবে রাজনীতির মাঠের ভালোবাসা ও দলের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাবে কোন কালো’শক্তি আমাকে ঘ্রাস করতে পারেনি!

যতটুক পেরেছি উজাড় করে দিয়েছি রাজনীতির স্বার্থে, পদ-পদবীর লোভ ছিল না কখনোই! তাই হইত রাজনীতির মাঠে স্বচ্ছ জবাবদিহিতায় ছিলাম।

তবে আর এখন পুরো বাংলাদেশ-ই- আওয়ামীলীগ কোনটা মুখোশধারী, হাইব্রীডে চেয়ে গেছে রাজনীতির ময়দান। কে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত আর কে হাইব্রীড তা চেনা বড্ড দায় , দলের দুঃসময়ে যারা দলের হাল ধরেছে তারাই আজ অবহেলিত। তাদের আজ রাজনীতির নীতি শেখায়, রা-জ-নী-তি শেখায়! যে দলের জন্য জীবনের সবটুকু মেধা-শ্রম দিয়ে গেছি, সে দল এই প্রবীন বয়সে তার কতটুক মূল্যায়ন করছে?

এখন রাজনীতিটা খুবই সহজ। কয়েকটা ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করতে পারলে বড় বড় নেতা হওয়া যায়। এমপি, মন্ত্রী ও বড়সড় নেতার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ালে কিংবা রাস্তার মোড়ে, এলাকার অলি-গলিতে ব্যানার, পোস্টার লাগালেই আজ বড় নেতা হওয়া যায়। সাংগঠনিক দক্ষতার কি দরকার, ঘরে বসে ফেসবুক রাজনীতি চমৎকার।

ইতি
আখতার উদ্দিন তালুকদার
প্রবীণ আ’লীগ নেতা


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.