নির্যাতন করে ভূমি ও টাকা আত্নসাৎ করায় বৃদ্ধা মায়ের আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন


প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা ও কোটি টাকা মূল্যের ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবর দখল করে মা ও ছোট ছেলেকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ঘর থেকে শূন্য হাতে বের করে দেওয়াই বড় পুত্র সাইফুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে মৃত্যু পথের যাত্রী গর্ভধারীন বৃদ্ধা মা খালেদা বেগম (৮৪)। সোমবার (৩ মে) সকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে খালেদা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন নির্যাতনকারী বড় ভাই সাইফুলের ছোট ভাই মুজিবুল হক।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী খালেদা বেগমের স্বামী সিরাজুল হক ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যু কালে তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন শুলকবহর আল মাদানী রোডে গোলতাজ ভিলা নামের ২ ইউনিটের দুইতলা একটি ভবন, ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সোনালী ব্যাংকে ৪০( চল্লিশ) লক্ষ টাকা রেখে যান। এবং তার স্বামীর মৃত্যুর ২১ দিন পর তার মেয়ে নিলুফার বেগমের মৃত্যু হয়। স্বামী এবং মেয়ের মৃত্যুতে মানসিক ভাবে বিপর্য্যস্ত হয়ে দিন যাপন করে আসছিলেন খালেদা। এমতাবস্থায় তার বড় ছেলে সাইফুল হক ব্যাংকে থাকা টাকা আত্নসাৎ ও সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টায় তাকে এবং তার ছোট ছেলে মুজিবুল হকের উপর নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন করা কালে সাইফুল প্রথমে প্রতারণা করে নগরীর সিরাজদৌল্লা রোড শাখার ৪৫৯ নং হিসাব হইতে ৪০ (চল্লিশ) লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন। এর পর বিষয়টি জানার পর সাইফুলকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে কোনো সঠিক সিদ্ধান্তের কথা না বলে সাইফুল এবং তার স্ত্রী নাজমা বেগম হঠাৎ খালেদা এবং তার ছোট ছেলে মুজিবুল হককে লাঠি দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে এবং হামলার বিষয়ে মুজিবুল হক একটি সিআর মামলাও দায়ের করেন বলে জানান খালেদা, যাহার মামলা নং-৫৫৯/১২।

এসময় তিনি আরও জানান, তার নামে ক্রয়কৃত দ্বিতীয় তলা গোলতাজ ভবনটি ৪/৫ তলা ভবন করবে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে এমন কথা বলে জমির সকল দলিলপত্র সাইফুলের আওতায় নিয়ে যায়। পরে প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে সাইফুল খালেদাকে রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে জালিয়াতি করে একটি হেবানামায় স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে হেবানামা বাতিল চেয়ে মাননীয় জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন খালেদা, যাহার মামলা নং-৩৭৪/১৩। পরে মামলার খবর জানতে পেরে সাইফুল ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার মুজিবুল হকের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে ঘর বন্দী করে রাখে। পরে বন্দী অবস্থা থেকে মুজিবুল হককে উদ্ধার করে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একখানা ডায়েরি দায়ের করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান ভুক্তভোগী খালেদা বেগম।

তিনি আরও জানান, পরর্বতীতে অভিযুক্ত সাইফুল আমার নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জালিয়াতি করে নাসিম চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করার কুমানসে গত ১৯ সালের ১২ জুন চট্টগ্রামের বহুল প্রচলিত দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায়া আইনগত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে, আমি একই বছরের ১৮ জুন একই পত্রিকায় বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি ক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্য সর্তক করে আইনগত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করি। এতে সাইফুল ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম সহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন সন্ত্রাসী আমি বসবাসরত গোলতাজ ভিলা এসে আমাকে গলা চিপে ধরে এবং আমার ছোট ছেলে মুজিবুল হককে রশি দিয়ে হাত পাঁ বেঁধে লাঠিপেটা করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এর তারা সবাই আমাকে জিম্মি করে ১০০ টাকা মূল্যের কয়েকটি স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নিয়ে শূন্য হাতে এক কাপড়ে আমাকে এবং আমার ছোট ছেলেকে বের করে দেয়, এবং এক সপ্তাহের মধ্যে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করলে মা ছেলে দুজনকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে আমাকে ও আমার ছোট ছেলেকে একটি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেও এখনো পর্যন্ত আমরা নির্যাতনের শিকার এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান নির্যাতনের শিকার মা খালেদা বেগম ও ছোট ছেলে মুজিবুল হক।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.