সুরসম্রাজ্ঞী শেফালী ঘোষের মৃত্যু বার্ষিকী আজ


আঞ্চলিক গানের কিংবদন্তী শিল্পী শেফালী ঘোষের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৬ সালের এ দিনে লাখো সঙ্গীতপিপাসু ভক্তদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারে চলে যান চট্টগ্রামের লোকগানের এ জনপ্রিয় সুরসম্রাজ্ঞী।

শেফালী ঘোষ ১৯৪১ সালে বোয়ালখালীর কানুনগো পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কৃষ্ঞ গোপাল ঘোষ ও মা আশালতা ঘোষের আদুরে কন্যা শেফালী ২০ বছর বয়সে চট্টগ্রামে আসেন গান শিখতে।

এরপর ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া, ওস্তাদ জগদানন্দ বড়ুয়া, ওস্তাদ তেজেন সেনের কাছে সঙ্গীতে হাতেখড়ি। শেফালী ঘোষ বিয়ে করেন বিশিষ্ট সুরকার ও গীতিকার ননী গোপাল দত্তকে।

শুধু চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানই নয়, বাংলা, ইংরেজি, মাইজভাণ্ডারী, ভজন, কীর্তন, দেশের গানেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০ সালে টিভিতে প্রথম গান পরিবেশন করেন। বসুন্ধরা, মধুমিতা, সাম্পানওয়ালা, মালকাবানু, মাটির মানুষ, স্বামী, মনের মানুষ, বর্গী সহ প্রায় ২১টি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্রায় ২ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রামের লোকগানের আরেক জনপ্রিয় শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ঞবের সঙ্গে জুটি বেঁধে এখানকার আঞ্চলিক গানকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। সুন্দর একখান মুখ পাইতাম, সোনা বন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা, ওরে সাম্পানওয়ালা, নাতিন বরই খা, সূর্য উডেল্লে ভাই লালমারি, ও মানুরে সুন্দর মানু, ও পরানের তালতো ভাই, কি জ্বালা দি গেলা মোরে, কইলজার ভিতর বান্ধি রাইখখুম তোঁয়ারে, আশকার দিঘীর পশ্চিম পাড়ত আঁর ভাঙা ঘর ইত্যাদি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। তাঁর গান আজও চট্টগ্রামবাসীর মুখে গুণগুণ করে।

নিজস্ব সঙ্গীত শৈলীর গুণে শুধু চট্টগ্রামবাসী নয়, পুরো বিশ্বকে মাতিয়েছেন তিনি। প্রবাসী বাঙালীদের আমন্ত্রণে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ওমান, কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

মরনোত্তর একুশে পদকসহ জীবদ্দশায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক পদক ১৯৯০, বাংলা একাডেমি আজীবন সম্মাননা পদক ২০০২ ও শিল্পকলা একাডেমি পদক ২০০৩ লাভ করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এ গর্বিত শিল্পী।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.