বাকাসস নেতৃবৃন্দের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যক্রম


নিউজ ডেস্কঃ সারাদেশে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবী ও গ্রেড পরিবর্তনসহ বিভিন্ন দাবীতে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত সারাদেশে ১৫ দিন ব্যাপী পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি কর্মসুচী চলমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) ৫ম দিনের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) চট্টগ্রাম জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা পূর্ণ দিবস এ কর্মবিরতি পালন করেন।

এসময় বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা জেলা পর্যায়ের এ কর্মসূচীতে যোগ দেয়ার কারণে অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীরা আদালত পাড়ায় জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। কর্মবিরতি চলাকালে জেলা প্রশাসনের সকল শাখা কর্মচারী শূন্য হয়ে পড়ায় সেবা পেতে আসা লোকজনকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। টানা ৫ দিন কর্মবিরতির ফলে এডিএম কোর্ট, রাজস্ব কোর্ট ও রেকর্ড রুমসহ জেলা প্রশাসনের সব শাখার কার্যক্রম বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় কর্তৃক বারবার আশ্বাস প্রদান করার পরও দাবী বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ১৫ নভেম্বর থেকে টানা ১৫ দিনের পূর্ণদিবসের এ কর্মবিরতির কর্মসূচী দিতে বাধ্য হয়েছেন বাকাসস। এ উপলক্ষে এক সভা সংগঠনের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এসএম আরিফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাকাসস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি স্বদেশ শর্মা, আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক উদয়ন কুমার বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও নুরুল মুহাম্মদ কাদের।

বাকাসস চট্টগ্রাম জেলা শাখার মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বপন কুমার দাশ, শ্যামল বিশ্বাস, সমীর কান্তি চক্রবর্তী, প্রদীপ কুমার চৌধুরী, নিউটন বড়ুয়া, মাহবুবুর রহমান, আলী আজম খান, প্রবোধ বড়ুয়া, আবদুল মোবিন, ইখতিয়ার উদ্দিন, বিজয় বড়ুয়া, দেবাশীষ রুদ্র, সাইফুর রহমান, শাপলা দাশগুপ্ত, সোয়েব মোহাম্মদ দুলু, সারাহ্ হোসেন, মোঃ শাহেদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, পরাগ মনি, আবদুল অদুদ, নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, শাহনাজ সুলতানা, সাঈদুল ইসলাম, মোজাফফর হোসেন, কাজলী দেবী, আনোয়ার হোসেন, সাদিয়া নুর, বিশ্বজিত দাশ,মোঃ নুরুচ্ছফা, কানু বিকাশ নন্দী, সাদেক উল্লাহ, লিটন দাশ, শফিউল আলম, ফজলে আকবর চৌধুরী, সায়েদুল ইসলাম, রিয়াজ উদ্দীন আহম্মদ, পুতুল দত্ত, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ এরশাদ আলম প্রমূখ।

সভায় বক্তাগণ বলেন, কালেক্টরেট সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেয়ার পরও অদ্যাবধি কালেক্টরেটে কর্মরত সহকারীদের পদবী ও গ্রেড পরিবর্তনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়নি। সচিবালয়ের একজন কর্মচারী ১৬ গ্রেডে চাকরিতে যোগদান করে ৫ বছর পর ১০ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়ে যান। আর সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে ১৬তম গ্রেডে যোগদান করে অনেকে সহকারী সচিব হয়ে চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন। শুধুমাত্র বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা চাকরিতে জীবন শেষেও কোনো পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে থেকেই অবসরে যাচ্ছেন। দাবী-দাওয়া মেনে নেয়ার পরপরই কর্মচারীরা আন্দোলন থেকে ফিরে গিয়ে কাজে যোদ দেবেন।

এসময় বক্তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, এসডিজি বাস্তবায়ন ও রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত সহকারীদের মনোবল সতেজ রেখে কাজের গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে তাদের পদোন্নতিসহ পদবী পরিবর্তন করে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা করার জন্য জোর দাবী জানান।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.