পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুতে আদালতের ঐতিহাসিক রায়


রাজধানীর পল্লবী থানায় আলোচিত পুলিশি হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে পল্লবী থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদসহ তিন পুলিশকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। 

আজ বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য দুই পুলিশ সদস্য হলেন, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু। এছাড়া আলোচিত এ মামলয় পুলিশের দুই সোর্স রাসেল ও সুমনকেও আদালত সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে দেশে এটাই প্রথম কোন মামলার রায়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে ইরানি ক্যাম্পে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান গিয়েছিলেন জনি। পুলিশের সোর্স সুমন মাতাল অবস্থায় ওই অনুষ্ঠানে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করলে জনি তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। তখন ঝগড়ার একপর্যায়ে জনি চড় মারলে সুমন ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে চলে যান।

আধা ঘণ্টা পর এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ এসে ওই অনুষ্ঠান থেকে জনিকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর নির্যাতন চলে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, জনিকে পল্লবী থানার হাজতে নিয়ে এসআই জাহিদসহ অন্য আসামিরা হকিস্টিক, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে এবং জনির বুকের ওপর উঠে লাফায়। জনি পানি চাইলে জাহিদ তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেন। নির্যাতনে জনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে এই মামলা করলে বিচারক এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

পরে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং পাঁচজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, সোর্স সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।এছাড়া মামলায় ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.