নারীদের ঈদযাত্রা


বাপ্পি দেববর্মন: বর্তমান করোনা সংকটকালীন সময়ে আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঈদ যাতায়াতে ভীষণ রকম ঝুঁকিতে পরবে।

বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা। করোনাকালীন এই সময়ে ৩ ফুট দুরত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আদৌ মানা হচ্ছেনা। তার মধ্যে এই সময়ে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে যা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকরাও বেকাদায়তে পরেছেন। কারন একজন সাধারন শ্রমিকের সর্বসাকুল্য (সব মিলিয়ে) বেতন পান ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ঈদবোনাসসহ মোট ১০ হাজারের মত পান। তার মধ্যে যদি ভাড়ার টাকাই অর্ধেক চলে যায়! তাহলে সে ঈদ করবে কিভাবে! তার পরিবারকে কি দেবে? আবার এর মধ্যে প্রতি যাত্রীকে ডাবল সিটের ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ এড়ানোর জন্য ট্রেনের টিকিটের ক্ষেত্রে অনলাইনে টিকিট কাটতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা অনলাইনে টিকিট কাটার বিষয়ে নিয়ম কিছু জানেনা। সরকার চাইলে প্রতিটি স্টেশনে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে মত তিন ফুট দূরত্বে বৃত্ত করে কাউন্টারেও কিছু টিকিট বিক্রি করতে পারতো। এই সিস্টেম চালু করলে শ্রমিকদের কিছুটা সমস্যা লাগব হতো।

আবার অনেকে আছেন পরিবার নিয়ে ঈদে বাড়িতে যান, সেক্ষেত্রে যদি স্বামী-স্ত্রী একসিটে বসে পাশাপাশি যেতে পারেন সেক্ষেত্রেও কিছুটা আর্থিকভাবে তারা কম ক্ষতিগ্রস্ত হতেন

আমরা তারপরও শ্রমিকদের এইবার বাড়িতে যেতে নিরুৎসাহিত করছি। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের। কারন নারী শ্রমিকরা সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ন অবস্থাতে রয়েছে বলে আমরা মনে করি। একজন নারী যখন ঈদযাত্রা করে তখন প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে তার সাথে ছেলেমেয়ে থাকে, ব্যাগসহ আনুসাঙ্গিক জিনিষ থাকে। যা অন্যান্য লোকজন সেখান থেকে সংক্রমিত হতে পারে।

আরো সমস্যা হয় যখন দেখা যায় বাস কাউন্টারে নারীদের জন্য বসার কোন সু ব্যবস্থা থাকেনা। এসি চেয়ার কোচ কাউন্টার গুলোতে ভালো কাউন্টার থাকলেও নন এসি বাসের কাউন্টার গুলোতে বসার সুব্যবস্থাও থাকে না। তাতে নারীরাই বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হয়।

আমাদের বর্তমান সরকার গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য অনেককিছু করেছেন। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকবান্ধব সরকারই বলা যায়। তিনি বারবার শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো থেকে শুরু করে প্রতিটি ঈদের আগে যাতে বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয় সেজন্য মালিকদেরকে তাগাদা দিয়ে থাকেন। এই সংকটকালীন শ্রমিকদের জন্য প্রনোদনার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, শ্রমিকদের বাঁচানোর জন্য । এই ঈদযাত্রাতে যদি গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য একটু সুযোগ প্রদান করতেন তাহলে আমাদের এই গার্মেন্টস শ্রমিক ভাইবোনরা আরো একটু স্বস্তি পেতেন।

তবে নিরাপদ স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য হাইওয়ে পুলিশদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে গতবারের ঈদুল ফিতরের মত এবারের ঈদুল আযহার ভ্রমণ অনেকটা স্বস্তিদায়ক হবে। এই আনন্দের দিনে কেউ যেন স্বজন হারা না হন, সেদিকে বিশেষ নজর যেন দেন সেই অনুরোধ করবো।

অনেক শ্রমিক বেতনও পাবেনা, ঈদের পরই বেতন পাবে। তাই অনেকের কাছে বোনাসই ভরসা। বর্তমানে দেশের কারখানাগুলো অর্ডারও কম নাই বললে চলে। আবার এর মধ্যে অনেক বায়ার ডিসকাউন্ট চাইছে। তাই এই দুঃসময়ে আমাদের সবাইকে মানবিক হতে হবে। আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে একে অপরের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই সংকটকাল অতিক্রম করতে হবে।
আমাদের ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
এই কঠিন সময় পার করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে দেশের জন্য সুদিন বয়ে আনতে হবে। সুদিন আসবে দেশের গার্মেন্টস সেক্টরে- ন্যায্য মজুরি ও সম্মান পাবেন আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

সুদিন ফিরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে আমাদের সকলেরই।

  1. লেখক: বাপ্পি দেববর্মন
    সভাপতি
    আলোকিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.